খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মাহফুজ আনামের বক্তব্য মিথ্যাচার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: রিজভী

নিউজ দর্পণ,ঢাকা: দি ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যাচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসংলগ্ন মতামত প্রকাশ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ দেশে দেশে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের প্রবল অনুরাগের কারণেই রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি হিসাবে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেক রক্ত ঝরেছে এদেশে। স্বাধীনতার পর জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন-ব্যবস্থা কায়েম করা হলে এ দেশের মানুষ তা মেনে নেয়নি। বাংলাদেশের জনগণের প্রাণপ্রিয় নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। জনগণকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ সব নাগরিক অধিকার।
এরপর এরশাদের স্বৈরশাসন চেপে বসলে এদেশের মানুষ প্রতিবাদ-মুখর হয়ে ওঠে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাত্র, তরুণ, পেশাজীবীসহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম শুরু করেন। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত ঢেলে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এদেশের মানুষের। তারা রক্ত ঢেলে দিয়ে গণতন্ত্র এনেছে। কিন্তু বারবার সেই গণতন্ত্র এবং এদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে আঁকড়ে ধরার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রের নিষ্ঠুর বেড়াজাল দিয়ে একনায়কতন্ত্র ও একদলীয় শাসনের মাধ্যমে জনগণকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করে তার সমাধির ওপর বর্তমানে একটি বিভিষিকাময় শাসন বিদ্যমান রয়েছে। যার নমূনা দিনের ভোট রাতে হয় অথবা বিনাভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। তথাকথিত উন্নয়নের নামে শোষণ, বঞ্চনা, লুটপাট ও অত্যাচারের এক দুঃসহ নব্য ফ্যাসিবাদ আজ জনগণের বুকের ওপর চেপে বসেছে।

এই ভয়াবহ দু:সময়ে গণতন্ত্র দিবসে ইংরেজী দৈনিক ‘দি ডেইলি স্টার’ এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম ‘অভঃবৎ ৩০ ুবধৎং ড়ভ ধঁঃড়পৎধপুং ফবসরংব, ফবসড়পৎধপু ংঃরষষ ৎবসধরহং ধ ফরংঃধহঃ ফৎবধস’ শিরোনামে নিজের একটি নিবন্ধ ছেপেছেন। যে নিবন্ধের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে-বিএনপি এবং সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যাচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসংলগ্ন মতামত। ওয়ান ইলেভেনের গণতন্ত্র ধংসের প্রধান কুশীলবদের অন্যতম হোতা এবং সেনা সমর্থিত মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের প্রতিনিধি হিসাবে পরিচিত মাহফুজ আনামের এই নিবন্ধে বেগম জিয়াকে নিয়ে তিনি সরাসরি ও ইঙ্গিতে যে মন্তব্য করেছেন তাতে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
গণতন্ত্রের কথা বলতে গিয়ে তিনি ইনিয়ে বিনিয়ে বারবার বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। যা হলুদ সাংবাদিকতা ও বর্তমান মিডনাইট সরকারের নির্লজ্জ স্তুতিরই সমতুল্য। মাহফুজ আনাম ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে তার প্রবন্ধে যা লিখেছেন তা অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পারিষদবর্গের হাইপার-প্রপাগান্ডা ও কলুষিত মিথ্যাচারের প্রতিধ্বনী মাত্র। মিথ্যা বানোয়াট গল্প সাজিয়ে সংবাদ পরিবেশনের দায়ে বার বার ক্ষমা চেয়ে এখন সরকারের কাছে সাধু সাজার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন তিনি। তার লেখালেখির ভিশন-মিশন হলো বিএনপি’র বিরুদ্ধে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কাহিনী রচনা করে তা প্রকাশ করা। ভয়ে হোক বা উচ্ছিষ্ট ভোগিচ্ছায় হোক গণতন্ত্রহীন ও বেপরোয়া আচরণে লিপ্ত আওয়ামী লীগ সরকারকে খুশী করাই এখন তার আরাধ্য। মাহফুজ আনাম এখন আওয়ামী নব্য নাৎসীবাদের উপাসকে পরিণত হয়েছেন।
তিনি বলেন, নিজেকে কথিত ‘প্রতিষ্ঠানতুল্য সাংবাদিক’ দাবী করা সাংবাদিকতার ‘এথিকস’ শেখানো, কে এই মাহফুজ আনাম ? কি তার আমলনামা ?। গণতন্ত্রের ফেরীওয়ালা সাজা এই মুখোশধারী মাহফুজ সাহেব এর  পিতা ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভায় দীপ্তিমান সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক-সম্পাদক সর্বজনেই শ্রদ্ধেয়। সেই স্মরণীয় আবুল মনসুর আহমদের নাম তিনি ভুলুন্ঠিত করছেন। মাহফুজ আনামদের সারথী হয়ে তথাকথিত সুশীল শ্রেণীর বেশ কয়েকজন এদেশে গণতন্ত্র হত্যা করে এক এগারোর অসাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। স্বচ্ছ সাংবাদিকতা নয়, বিদেশী অর্থদাতা প্রভু ও দেশীয় গোয়েন্দাদের এজেন্ট হিসেবেই কাজ করেছেন মাহফুজ আনাম। মাহফুজ আনামদের বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস এবং ফ্যাসিবাদের উত্থানে ভূমিকা ও অপতৎপরতা কলংকিত ইতিহাস হয়ে থাকবে। বিএনপি বিপুল বিজয়ে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যার মাধ্যমে অসাংবিধানিক শাসন কায়েম করার নীলনকশা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে এই মাহফুজ সাহেবরা। কারণে অকারণে তাদের প্রায় প্রতিদিন দেখা যেতো জাতির সামনে নানা সবক নিয়ে হাজির হতে। তাদের নেতৃত্বেই তখন নানা ইস্যু বানিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির পালে হাওয়া দেয়া হয়। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অবৈধ ক্ষমতা গ্রহণকারিদের মাধ্যমে সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তি তাদের প্রথম লক্ষ্য হাসিল করে। সেই লক্ষ্য হাসিলে পুরোধা ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার নিয়ে সেদিন তিনি উল্লাস করেছিলেন। এ সরকার আনার পেছনে নিজের কৃতিত্ব নিয়ে সগর্বে কলাম লিখেছিলেন-‘দুই নেত্রীকে বিদায় নিতে হবে’। ডেইলী স্টার গ্রুপের পত্রিকায় গণতান্ত্রিক সরকারের পরিবর্তে সেনা সমর্থিত অগণতান্ত্রিক, একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসনকে স্বাগত জানিয়ে প্রকাশ করা হয়েছিল একটির পর একটি নিবন্ধ। পুরো সময়টা তারা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাকে শুধুই গালমন্দ করে মনগড়া নিবন্ধ লিখে গেছেন।
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, মাইনাস ফর্মুলায় রাজনীতি শূন্য করতে মাহফুজ আনাম মিথ্যা, অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে রাজনীতিকদের গ্রেপ্তারের পটভূমি রচনার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তৎকালীন অবৈধ সরকার গণমানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এক বছরের বেশী সময় কারাবন্দী করে রাখে। এদেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানকে হত্যার চেষ্টা করেছে। নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। আজও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। এর জন্য দায়ী ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা। মাহফুজ আনামদের চোখে সব দোষ রাজনীতিকদের। রাজনীতিবিদরা সবাই যেন চাঁদাবাজ-চোর। তারাই কেবল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মনগড়া অভিযোগ এনে ওই পত্রিকায় তালিকাও ছাপা হয়েছিল। আর জেলে ঢোকানো হয় দেড় শতাধিক নেতাকে। রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রী সন্তানদের পর্যন্ত ধরে নিয়ে জেলে ঢোকানো হয়।
জরুরী আইনের সরকারের আইন মন্ত্রীর সাথে সম্পাদকদের এক বৈঠক শেষে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে হাজির হয়ে ১/১১ সরকার তৈরীর প্রধান কারিগর মাহফুজ আনাম বলেছিলেন, ‘এ সরকার হচ্ছে আমাদের আন্দোলনের ফসল’। তার কিছুদিন পরে শেখ হাসিনাও বলেছিলেন ‘এ সরকার হচ্ছে আমাদের আন্দোলনের ফসল’। মাহফুজের ভাষার সঙ্গে গণতন্ত্র হত্যাকারী শেখ হাসিনার ভাষার কোন পার্থক্য ছিল না। এখনো নেই। তখনই তৈরী হয়েছিল ‘গেম প্ল্যান’। সেই ‘গেম প্ল্যান’ অনুযায়ী আজকের আওয়ামী নাৎসীবাদের উত্থান। ‘গেম প্ল্যান’ অনুযায়ী জরুরী আইনের সরকার ভিন্ন কোন দেশের মধ্যস্থতায় শেখ হাসিনার সাথে সমঝোতার মাধ্যমে প্রহসনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসায়। সেই থেকে বাংলাদেশের বুকের ওপর চেপে বসেছে ভয়াবহ আওয়ামী দু:শাসন। কোন এথিক্সের ধার না ধরে তাদের কথা অনুযায়ী রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিবাজ বানানোর চেষ্টা করেছেন। নিরপেক্ষতার গালভরা বুলি, স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রের শ্লোগানের আড়ালে গণতন্ত্রের ঘরে অগণতান্ত্রিক শক্তির বিভীষণকে ফুলচন্দন দিয়ে বরণ করেছিলেন। যে তত্ত্বের বিষ দেশের মানুষকে গেলাতে চেয়েছিলেন তার অপর নাম মাইনাস টু-থিওরি বা ফর্মুলা। তাদের অপকর্ম ও ষড়যন্ত্রের কারনেই আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি আজ গণতন্ত্রহীন, খুন, গুম, বিচারহীনতার এক বিরানভূমি। এদেশ আজ জল্লাদের রঙ্গমঞ্চে পরিনত হয়েছে। সেই কুচক্রী মাহফুজ সাহেবরা এখন নতুন করে বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করে জাতিকে গণতন্ত্রের জ্ঞান বিতরণ করছেন। তার নিবন্ধ গণতন্ত্রের জন্য মায়া কান্না এবং হলুদ সাংবাদিকতার নতুন সংযোজন বলে আমরা মনে করি। মনে রাখতে হবে, শকুন যখন কাঁদে তখন গরুর জন্যই কাঁদে, প্রাণীকুলের কোন করুণ ট্র্যাজেডির জন্য কাঁদে না।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গণতন্ত্র নিয়ে কলাম লিখতে যেয়ে মাহফুজ আনাম খেই হারিয়ে ফেলেছেন। নিশিরাতের সরকারকে পরিতুষ্ট করার জন্য একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার প্রেক্ষিত এবং বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ অসার ও কদর্য মিথ্যাচার করেছেন। মাহফুজ আনাম লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত হয়নি এবং এই ঘটনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য করা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন’। এই লেখাতেই প্রমাণিত হয় মাহফুজ আনাম সাহেব বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি বিষোদগার করে আওয়ামী লীগের কৃপা পেতে চান। ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে মাহফুজ আনাম ভালোভাবেই অবগত আছেন। প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগকে কব্জা করে মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্তের মাধ্যমে বর্তমান প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকার স্বাক্ষ্য প্রমাণহীন রায় প্রদান করে অনেক নিরপরাধের সাজা দিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি কখনোই ঘৃণ্য হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

মাহফুজ আনামকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বিএনপি’র মতো একটি জনপ্রিয় দল কেন ২১ আগষ্টের ঘটনা ঘটাবে। যেহেতু বিএনপি তখন ক্ষমতায় বিএনপি কেন  নিজেই নিজের সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইবে ? ২১ আগষ্ট ঘটনার পর বিএনপি সরকার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এবং আমেরিকা থেকে এফবিআই-এর একটি দল এনে তদন্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ সেদিন কোন সহযোগিতা করেনি। এ কথাগুলো আপনার লেখাতে আসেনি কেন ? প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বলেন, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান জড়িত। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ারও দায় আছে বলে বক্তব্য দেন। কিন্তু বাংলাদেশের কোন মানুষই তা বিশ^াস করে না। কিন্তু শেখ হাসিনার বিশ^াস আপনার লেখাতে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন। গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান জড়িত হলে আপনাদের আন্দোলনের ফসল মঈনুদ্দীন-ফখরুদ্দীনের সরকারের সময়ও তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না কেন ? মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম কেন দেয়নি ? আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আইন-আদালত কব্জার মাধ্যমে তারপর তার নাম দিতে হলো। ২১ শে আগষ্ট সংক্রান্ত মামলায় ৬ বার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতা কাহার আকন্দকে অবসর থেকে ডেকে নিয়ে এসে এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। চুক্তিভিত্তিক তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহার আকন্দ কর্তৃক তথাকথিত তদন্ত কার্যক্রম চালাতে গিয়ে সরকারি অনেক দলিল দস্তাবেজ হয় গায়েব অথবা সৃজন ও পরিবর্তন করা হয়েছে। এই কর্মকর্তা শুধুমাত্র মুফতি হান্নান নামের একজন ব্যক্তিকে ৪১০ দিনের বেশি সময় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে তার মুখ থেকে বের করানো হয় তারেক রহমানের নাম। তবে পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আদালতে গিয়ে নিজেই তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আবেদন করেন। যে খবর শীর্ষ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আর্শ্চযের বিষয় হলো, যেই একজন মাত্র ব্যক্তির মুখ থেকে জোরপূর্বক নাম বের করে ২১ আগস্ট মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে এই মামলার চূড়ান্ত রায় হবার পূর্বেই অন্য একটি মামলায় ওই মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এটি কি স্বাভাবিক ঘটনা ?
২১ আগষ্টের দিন আওয়ামী লীগের সভার ঘটনাটিও নিশ্চয়ই আপনার মনে আছে। সভাটি হঠাৎ করে কেন মুক্তাঙ্গন থেকে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে স্থানান্তরিত হলো-সেই রহস্যটি তো আপনার লেখাতে নেই। শেখ হাসিনারই দাবি করা আন্তর্জাতিক তদন্ত অনুষ্ঠানকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই দল ঘটনাস্থল সরেজমিনে তদন্তের পর যখন শেখ হাসিনাকে বহন করা গাড়িটি পরিদর্শন করতে চেয়েছিলো, তা পরিদর্শন করতে দিতে শেখ হাসিনা অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু কেনো এই অস্বীকৃতি ? ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে এফবিআই দলকে তদন্ত সহায়তা না করায় অবশেষে তারা তাদের তদন্তকার্য অসমাপ্ত রেখেই ফিরে চলে যায়।’ আপনার পত্রিকায় (ডেইলি স্টার) ২০০৪ সালের  সেপ্টেম্বর মাসে ছাপা হয়েছিল ‘মামলা তদন্তে সহযোগিতা করছেন না শেখ হাসিনা।’
আপনি জানেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২১শে আগষ্ট বোমা হামলার মামলাকে রাজনীতিকীকরণ করেছে। এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায় আওয়ামী সরকার প্রকৃত কুশিলবদের আড়াল করতে চেয়েছে। আওয়ামী প্রভাবিত মামলার কার্যক্রমে সেটাই প্রমাণিত হয়। এই মামলায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে যখন কোনভাবে তা বিশ্বাসযাগ্য করা যায়নি তখন এবছর ২১ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট-এ গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকীতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নতুন সুর তুলে বলেছেন, ‘২১ শে আগস্টে যে গ্রেনেড হামলা হলো তার দায় খালেদা জিয়া এড়াতে পারেন না।’ তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছেন, ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার দায় খালেদা জিয়ারও। আওয়ামী লীগের এক মামলাবাজ অতি উৎসাহিত হয়ে ৩ সেপ্টেম্বর ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতা হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে একমাত্র আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করতে ছুটে গেলেন আদালতে। আদালত তা নাকচ করে দেন। প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর কথার ওপর ভিত্তি করেই সরকারের সুনজর পেতে অতি উৎসাহে সম্পাদক মাহফুজ আনাম লিখে ফেললেন প্রভূর আজ্ঞায় সেই মিথ্যাটিই। ২০০৯ সালের পিলখানার ট্র্যাজেডি, ত্বকি হত্যা, ফেলানীসহ সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা, তনু-মিতু-নুসরাতসহ পৈশাচিকভাবে অসংখ্য নারী ও শিশু হত্যার হিড়িক, সেভেন মার্ডার, গুম, খুন, বিচার বহির্ভুত হত্যার মহৌৎসব চলছে, রাজকোষ লুট, দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে গত ১২ বছরে দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার, ক্যাসিনো কান্ড, পর্দা ও বালিশ কান্ড, পাথর ও কয়লা কান্ড ও নানা কালা-কানুনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কন্ঠরোধের যে ভীতির পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, যার সাথে ক্ষমতাসীনরা জড়িত। অথচ এধরণের সত্য ঘটনা লেখা আপনার কলম থেকে বের হয় না।
তিনি আরো বলেন,ওয়ান ইলেভেনের অন্যতম কুশীলব মাহফুজ আনাম মুখে গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে চিৎকার করলেও তিনি আপন স্বার্থসিদ্ধির জন্য গনতন্ত্র হন্তারকদের নাটের গুরু, ফ্যাসিবাদের তল্পীবাহক। এক্ষেত্রে সেক্সপিয়ারের একটি উদ্ধৃতি মনে পড়ে যায়-‘ঞযবৎব যধঢ়ঢ়বহ সড়ৎব ঃযরহমং রহ যবধাবহ ধহফ বধৎঃয, স্বর্গে কি ঘটে বলতে পারবো না, তবে পৃথিবীতে বিচিত্র ও বহুরুপী মানুষরা নানা ঘটনার সাথে যে যুক্ত থাকে মাহফুজ আনাম সাহেবরা তার প্রমাণ। মাহফুজ আনামদের সাংবাদিকতা বস্তুনিষ্ঠতার জন্য, নাকি মুখোশ সেটি এখন জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
মাহফুজ আনাম ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী টিভি টকশোতে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক সরবরাহ করা সূত্রবিহীন খবর যাচাই না করে ছাপিয়ে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিবাজ বানানোর চেষ্টা ও গ্রেফতার করার প্রেক্ষাপট তৈরির কথা স্বীকার করার পর ক্ষমা চেয়েও কুল পাননি।
তার নামে প্রতিটি জেলায় মামলা হয়েছে। জাতীয় সংসদে তার বিচার এবং ডেইলি স্টার বন্ধের দাবি ওঠে। তবে সারাদেশে মামলার পর বদলে গেছেন মাহফুজ সাহেব। মাহফুজ আনামের অপরাধ রাষ্ট্রদ্রোহের সমতুল্য। কারণ তিনি নিজে একটি অসাংবিধানিক সরকারকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন অথবা গোয়েন্দাদের  দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করে অসাংবিধানিক একটি গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছেন অথবা তাদের ইচ্ছেকে সমর্থন যুগিয়েছেন। এক্ষেত্রে সম্পাদক জার্নালিজমের এথিক্সের ধার ধারেননি। দেশের জনগণ মনে করে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা ছিল ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টির মহড়া। এই মহড়ার কুশিলবদের সঙ্গে মাহফুজ আনামরাও জড়িত থাকতে পারেন। এখন বাঁচার জন্য সরকারের সুরে সুর মিলিয়ে গীত গাইছেন। তার লেখার মধ্যে তিনি অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছেন যা একদিকে যেমন নিশুতি সরকারের প্রতি তার নির্লজ্জ দালালির স্বাক্ষ্য বহন করে, অন্যদিকে তেমনি বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতি গভীর এক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বলে বিএনপি মনে করে। মাহফুজ আনাম পেপার ট্রায়াল করেছেন। আমরা মাহফুজ আনামের ফরমায়েশী,অসৎ উদ্দেশ্যপ্রনোদিত একদেশদর্শী এই প্রবন্ধে ২১ আগষ্ট ও দেশনেত্রীকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন সেটি ঘৃন্যভরে প্রত্যাখ্যান করছি। সেদিনের মাহফুজ আনামদের ভূমিকা ওয়ান ইলেভেনের পথ বেয়ে আজকের নিষ্ঠুর নাৎসীবাদ কায়েম নিশ্চিত করেছে। দেশের মানুষ আজ নাৎসীবাদের করাল গ্রাসে বন্দী হয়ে পড়েছে। এর দায় একদিন মাহফুজ আনাম সাহেবদের নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *