খালেদা জিয়াকে ভিসা দিতে বৃটেনের আপত্তি নেই: হাইকমিশনার

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভিসা দিতে বৃটেনের কোন আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার রবার্ট চ্যটার্টন ডিকসন।
আজ বুধবার ভার্চুয়াল ডিকাব টকে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ভ্যাকসিন ট্রায়ালে বাংলাদেশ না থাকলেও অক্সফোর্ড এর করোনা ভ্যাকসিন পেতে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ বলেও জানান তিনি।
‘বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং বিদেশ যেতে পারবেন না’- এমন শর্ত বহাল রেখে সরকারের নির্বাহী আদেশে দ্বিতীয় মেয়াদে আরও ৬ মাসের জন্য অন্তর্র্বতীকালীন মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তবে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের ভিসা পেতে বেগম খালেদা জিয়ার কোনও বাধা নেই।

২ মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাময়িক মুক্তিতে থাকা বেগম জিয়ার যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ডিকসন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার যুক্তরাজ্যে আছে। বেগম খালেদা জিয়ার ভিসা পেতে যুক্তরাজ্য সরকারের প থেকে কোনও বাধা নেই।’
অন্তর্র্বতীকালীন মুক্তির শর্তানুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়া চাইলেও বিদেশ যেতে পারবেন না। এজন্য তাকে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। সরকার অনুমতি দিলে তবেই বিদেশ গমন করতে পারবেন তিনি। ফলে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ যাওয়াটা অনেকটা সরকারের ইচ্ছে-অনিচ্ছের ওপর নির্ভর করছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারায় বেগম খালেদা জিয়ার দন্ডাদেশ স্থগিত করে সরকারের নির্বাহী আদেশে গত ২৫ মার্চ ৬ মাসের জন্য তিনি মুক্তি পান।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট- এই দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গেল বছরের এপ্রিলে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে গত প্রায় ১১ মাস ধরে সেখানেই কারা নজরদারিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ ২ বছর ১ মাস ১৯ দিন কারাভোগের পর সরকারের নির্বাহী আদেশে ৬ মাসের সাজা স্থগিতাদেশ নিয়ে গত ২৫ মার্চ বিকেলে বিএসএমএমইউ থেকে মুক্তি পান দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
এরপর বেগম খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে পরিবারের প থেকে সরকারের কাছে আবেদনের প্রেেিত গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে জানান, বেগম খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়িয়েছে সরকার। ফলে আরও ৬ মাস তিনি গুলশানের বাসা ফিরোজাতেই থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।
কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাব এর সদস্যদের সঙ্গে সকালে জুম মিটিংয়ে রবার্ট ডিকসন করোনা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যদের গণহত্যার স্বীকারোক্তি বিচারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। রবার্ট ডিকসন রোহিঙ্গাদের ফেরাতে তাঁদের নাগরিকত্ব পাওয়ার ওপর জোর দেয়ার তাগিদ দেন। রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *