কোয়ারেন্টাইন জেনেও দেশে ফিরেছেন ২৭৩ যুক্তরাজ্যপ্রবাসী

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: করোনাভাইরাস নেগেটিভ সনদ সঙ্গে নিয়ে ফিরলেও বাধ্যতামূলক ‘বন্দিজীবন’ সরকার নির্ধারিত হোটেলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে এমনটা জেনেও প্রবাসীরা দেশে ফিরে আসছেন।
যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় দফায় নতুন ধরনের করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গত ১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যফেরত সবার জন্য বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের নতুন নিয়ম চালু হয়।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, গত ১ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে মোট ২৭৩ জন বাংলাদেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আশকোনা হজ ক্যাম্পের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নেয়া হয়। সেখান থেকে যাত্রীরা সরকার নির্ধারিত হোটেলে যান।
জানা গেছে, সাতদিন পর প্রত্যেক যাত্রীর নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। করোনা নেগেটিভ হলে তার বিস্তারিত নাম ও ঠিকানা রেখে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।
সূত্র জানায়, গত ১ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে থেকে আসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া যাত্রীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২১ জন, ১৮ জন, ১৩ জন, ২০ জন, ২২ জন, ৩০ জন, ১৮ জন, ৩১ জন, ২১ জন, ৩৫ জন, ৩৪ জন এবং ১০ জন।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানান, বুধবার (১৩ জানুয়ারি) এমিরেটস এয়ারলাইন্সে চারজন ও কাতার এয়ারলাইন্সে তিনজনসহ মোট সাতজনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাজ্যে করোনায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হওয়ায় অনেক প্রবাসী তাদের বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে ছুটে আসছেন। করোনা পরিস্থিতি জীবন সম্পর্কে তাদের নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে বলে তারা আলাপকালে জানান।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাধিক সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) গত বছরের ৫ ডিসেম্বর করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া কোনো এয়ারলাইন্স যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না এই মর্মে নির্দেশনা জারি করে।
কিন্তু এ নির্দেশনা জারির পরও করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাত্রী আসা অব্যাহত থাকে। নেগেটিভ সনদ ছাড়া যাত্রী পরিবহন করায় রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ একাধিক বিদেশি এয়ারলাইন্সকে আর্থিক জরিমানা এমনকি যাত্রীকেও জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন মোট এক লাখ ৪৫ হাজার ৫৮ জন যাত্রী। তাদের মধ্যে মোট দুই হাজার ৪২৮ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। যাত্রীদের মধ্যে ১৩ জনকে করোনা হাসপাতালে রেফার করা হয়। এছাড়া ছয়জন বিদেশি যাত্রীকে ফেরত পাঠানো হয়।
করোনা সংক্রমণরোধে বিমানবন্দরে সতকর্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রধান কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘আগের তুলনায় দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো নির্দেশনা মেনেই যাত্রী পরিবহন করছে।
যুক্তরাজ্য থেকে যারা ফিরছেন তারা বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে এমনটা মেনে নিয়েই ফিরে আসছেন। তারা সরকার নির্ধারিত সাতটি হোটেলের মধ্যে তাদের পছন্দের হোটেলে কোয়ারেন্টানেই থাকছেন বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *