কালোবাজারী সিন্ডিকেট চক্র সরকারকে নিয়ন্ত্রন করছে : ডাঃ ইরান

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি ও দফায় দফায় বাড়ীভাড়া-গাড়ীভাড়া বৃদ্ধির কারনে জনগণ চোখে সরষেফুল দেখছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, দ্রব্যমুল্যের আকাশচুম্বি উর্ধ্বগতিতে জনগন দিশেহারা। চাল ও তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কালোবাজারী সিন্ডিকেটের ওপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন নেই বরং কালোবাজারী সিন্ডিকেট চক্র সরকারকে নিয়ন্ত্রন করছে। তারা নানা অজুহাত সৃষ্টি করে জনগণের পকেট কাটছে। সরকারের টিসিবি, ট্যারিফ কমিশন ও ভোক্তা অধিকার নামক একাধিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চরম সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। লোকবল সংকট, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারনে তাদের কর্মকান্ড মুখ থুবড়ে পরেছে। বর্তমানে করোনা, বন্যা পরিস্থিতি, নদী ভাঙ্গন ও প্রবাসীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কারনে কোটি কোটি লোক বেকার ও কর্মহীূন হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে চাল পিয়াজ ভোজ্যতেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্যের আকাশচুম্বি উর্ধ্বগতি জনর্দুভোগকে আরেক দফা বাড়িয়ে দিয়েছে। ধনী গরিবের শ্রেনী বৈসাম্য প্রকট আকার ধারন করছে। নিম্নশ্রেনী ও অসহায় দুঃস্থ্যরা কাজকর্ম ও মানুষের সহযোগীতা নিয়ে চলতে পারলেও সংখ্যাগরিষ্ট মধ্যবিত্ত শ্রেনী চরম দুঃসময় অতিক্রম করছে। মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বুকফাটা কান্না শোনার কেউ নেই।
আজ শনিবার দুপুরে পুরানা পল্টন মোড়ে দ্রব্যমুল্যের উর্ধ্বগতি রোধ ও বাড়ীভাড়া-গাড়ীভাড়া নিয়ন্ত্রনের দাবীতে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। মিছিলটি পল্টন টাওয়ার থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন, হাউজ বিল্ডিং, বায়তুল মোকাররম হয়ে ফটোজার্নালিস্টের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বর্তমানে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সরকার দলীয় এমপি-মন্ত্রী, নেতা-কর্মীরা ছাড়া কেউ ভালো নেই মন্তব্য করে ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারী মদদে দেশের সম্পদ লুটপাট ও পাচার হচ্ছে। সীমাহিন দুর্নীতি, দলীয়করন ও আত্মীয়করনের মাধ্যমে বিগত ১৪ বছরে সরকার দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক সাংস্কৃতিকে ধ্বংসস্তুপে পরিনত করেছে। আল-জাজিরার সিরিজ প্রতিবেদনে সরকারের অত্যাচার নির্যাতন, দুর্নীতি-লুটপাট, দলীয়করন-আত্মীয়করন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বির্তকিত করেছে। এই সরকারের এক মুহুর্ত ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই মন্তব্য করে ডাঃ ইরান বলেন অবিলম্বে ভোটারবিহীন প্রশ্নবিদ্ধ তামাশার সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। দলকানা ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিশন গঠন করতে হবে। তিনি জনগনের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কৃষক-শ্রমিক বান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমজীবি, কর্মজীবি ও পেশাজীবি সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক হুমাউন কবীরের পরিচালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির মহাসচিব লায়ন ফারুক রহমান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিন, উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম-মহাসচিব নুরুল ইসলাম সিয়াম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহমান খোকন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *