কাঁচামরিচের ঝাঁজে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের 

নিউজ দর্পণ,ঢাকা : বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর হঠাৎ করেই বেড়ে যায় কাঁচামরিচের দাম। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম চড়া হওয়ায় ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম এখন ২০০ টাকা। যা অনেক ক্রেতার সাধ্যের বাইরে। বিক্রেতারা বলছেন, সারা দেশে অতিবর্ষণ ও বন্যার পানিতে অনেক মরিচের ক্ষেত ডুবে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে অসংখ্য মরিচ ক্ষেত। ফলে সরবারহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া রাজধানীর অন্যান্য খুচরা বাজারে কাঁচামরিচের দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। শান্তিবাগের একটি মেসে থাকেন রফিকুল ইসলাম। বাসার পাশেই শান্তিবাগ কাঁচাবাজার। বাজার করতে এসে তিনি বলেন, এখন প্রায় সবজির দামই বেশি। তবে কাঁচামরিচের দামটা সবচেয়ে বেশি। প্রতিবছরই বর্ষাকালে মরিচের দাম বেড়ে যায়। শোনা যাচ্ছে, এ সময় বন্যার পানিতে অনেক মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ে। এই বাজারে কেউ ২০০ টাকার নিচে মরিচ বিক্রি করছে না। মনে হচ্ছে এটা সিন্ডিকেট। প্রকৃত পক্ষে মরিচের সংকট আছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা অনেক সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করেও দাম বাড়ায়। চাইলেই হয়তো আর একটু কম দামে বিক্রি করতে পারে।

হঠাৎ মরিচের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, বন্যায় অনেক মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে। কাওরান বাজারে সিরাজগঞ্জ থেকে মরিচ নিয়ে আসেন আড়তদার মো. ইকবাল। তিনি বলেন, ১৫ মণ মরিচের অর্ডার করেছিলাম। কিন্তু তারা মরিচ পাঠিয়েছে ৮ মণ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে মরিচের আমদানি কম। আবার কৃষকরা দামও বেশি হাঁকাচ্ছেন। স্থানীয় পাইকারি বাজারেই ১৫০ টাকায় মরিচ বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মরিচ ছাড়াও খুচরা বাজারে আলুসহ প্রায় সব সবজির দাম এখন বাড়তি। বাজারে প্রকারভেদে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া প্রতিকেজি হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, দেশি শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা-চিচিঙা-ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাকরোল মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুর ছড়া ৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, টমেটো ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ১০ টাকা বেড়ে প্রতিহালি কাঁচকলা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের শাক। বাজারে প্রতি আঁটি লালশাক বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, মুলা ও কলমিশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউ ও কুমড়াশাক ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, ডাটাশাক ২৫ টাকা। সবজির বাড়তি দাম নিয়ে বিক্রেতা সুমন বলেন, বন্যায় দেশের সবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে সবজি কম আসছে, তাই দাম বাড়তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *