কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে উজাড় হচ্ছে মিরসরাইয়ের সরকারি বন

নিউজ দর্পণ ডেস্ক: করেরহাট রেঞ্জের আওতায় ১২ হাজার ৮৯ একর বন ভূমি রয়েছে। এ বনে সেগুন, আকাশমনি, গামারিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। মিরসরাইয়ের করেরহাট রেঞ্জের সরকারি বনের গাছ কাটা থামানোই যাচ্ছে না। রাতের আঁধারে কেটে নেয়া হচ্ছে সবুজ বনায়ন। বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে রাতের অন্ধকারে মিরসরাইয়ের সরকারি বন কেটে উজার করছে প্রভাবশালী একটি চক্র।

 অথচ বন বিভাগের করেরহাট রেঞ্জের একটি বিট অফিস থাকা সত্ত্বেও রক্ষা করা যাচ্ছে না সরকারি এ বনভূমি। বিট কর্মকর্তাদের চোখে ফাঁকি দিয়ে কেটে নেয়া কাঠ নিয়ে আসা হয় দোকানে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে এ অপকর্ম করছে প্রভাবশালী একটি চক্র। সব শেষ ৩১ জুলাই রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কমফোর্ট হাসপাতালের সামনে থেকে আট পিস সেগুন কাঠসহ একটি পিকআপ জব্দ করেন স্থানীয়রা। এ সময় ওই পিকআপের চালক গাড়িতে থাকা কাঠ করেরহাটের জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বলে জানান। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা এসব কাঠ জব্দ করে নিয়ে আসেন।

করেরহাট রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে চলতি মাস পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করেছেন বন কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে ৩৫৭ দশমিক ৯৫ ঘনফুট সেগুন, ৯৯ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ ও ৬ ঘনফুট গোল্লা আকাশমনি রয়েছে। এছাড়া সরকারি বনের গাছ কাটা সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ১০টি। সর্বশেষ চলতি মাসের ১ তারিখে জামাল উদ্দিন নামে একজনকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করে বন বিভাগ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামাল উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়েই বনে অভিযান চালান বন কর্মকর্তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, জামাল উদ্দিন বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারি বন উজাড় করছেন। দিন-দুপুরে সরকারি মূল্যবান কাঠ কেটে রাতের আঁধারে পাচার করা হয়। বন কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় কাঠ কাটা হলেও এতদিন জামাল উদ্দিন ছিলেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। দিন-দুপুরে সরকারি বাগানের কাঠ কাটা ও জামাল উদ্দিনের সম্পৃক্ত থাকার একটি ভিডিও রেকর্ড বণিক বার্তার হাতে আছে।

জানা গেছে, করেরহাট ইউনিয়নের কালাপানি, সাইবেনিখিল, নয়টিলা মাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বন রয়েছে। এসব বনে সেগুন, মেহগনি, আকাশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ রয়েছে। কিন্তু বনদস্যুদের একটি সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে মূল্যবান এ গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ নয়টিলা মাজারের সাইবেনিখিল এলাকা থেকে আসার পথেই রয়েছে করেরহাট বন বিভাগের চেক পোস্ট। বন বিভাগের চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এ অবৈধ কাঠবাহী ট্রাকগুলো এক স্থান থেকে অন্যস্থানে আসে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক সময় ট্রাকের ভেতরে অন্য প্রজাতির কাঠ দিয়ে ঢেকে সরকারি বাগানের কাঠ পাচার করা হয়।

এ বিষয়ে করেরহাট বিট কাম চেক স্টেশনের বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নইমূল ইসলাম জানান, করেরহাট চেক স্টেশনের মাধ্যমে সড়কে যাতায়াতকারী সব কাঠের গাড়ি তল্লাশি করা হয়ে থাকে। বনদস্যুদের সঙ্গে বন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তবে জামাল উদ্দিন সাহসী হওয়ায় বন টহলে যাওয়ার সময় তাকে মাঝে মাঝে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

করেরহাট রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এজেএম হাসানূর রহমান জানান, তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাই এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারছেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *