করোনায় আক্রান্ত সাইফ হাসান ও ট্রেনার নিক লি

নিউজ দর্পণ ডেস্ক: শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে ধারাবাহিক কোভিড-১৯ টেস্টের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সোমবার প্রথম দফায় ১৭ জন ক্রিকেটার ও ৭ জন সাপোর্ট স্টাফের পরীক্ষা করায় বিসিবি। বারডেম হাসপাতালের ল্যাবে টেস্টের পর দু’জনের ফল পজেটিভ আসে। একজন জাতীয় দলের তরুণ ওপেনার সাইফ হাসান। অন্যজন ট্রেনার নিকোলাস লি। জাতীয় দলের এই ট্রেনারের করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জন্ম দিয়েছে নতুন প্রশ্নের। কারণ লি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন গত ১৪ই আগস্ট দুবাইয়ে। সেখান থেকে তিনি ঢাকা এসেছেন নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে।

গত মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে এসে কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিন পারও করেছেন এই ইংলিশ ম্যান। লি’র বিষয়ে বিসিবি’র মেডিকেল বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। কথা বলতে রাজি হননি বিসিবি’র প্রধান চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী। গতকাল বেলা তিনটায় রিপোর্ট বিসিবি’র হাতে আসে। দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের এই বিষয়ে বলার কোনো অনুমতি নেই। বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাতে পারে।’ পরে বিসিবি’র পক্ষ থেকে ইমেলের মাধ্যমে তাদের দু’জনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এছাড়াও সেই বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘আমাদের ম্যানেজমেন্টকে পরিকল্পনার দেয়ার আগে বিসিবি’র কোভিড-১৯ বিশেষজ্ঞরা দেখবেন লি’র ইনফেকশনটা নতুন না পুরনো।’

সবকিছু ঠিক থাকলে ২৭শে সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে দেশ ছাড়াবে বাংলাদেশ দল। তার আগে জাতীয় দলের ক্রিকেটার থেকে শুরু করে কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফ, সবার চারবার করোনা পরীক্ষা করা হবে। যার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে সোমবার। এই পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল ১৮ই সেপ্টেম্বর থেকে। কিন্তু জাতীয় দলের ব্যক্তিগত অনুশীলন চলাকালে বিসিবি’র ট্রেনার ইয়াকুব চৌধুরী ডালিম করোনা আক্রান্ত হন। তার আগে বিসিবি’র বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা ধরা পড়ে। আতঙ্কে ক্রিকেটারদের অনুশীলন বন্ধ করে দেয়া হয়। যদিও আজ থেকে আবার ট্রেনিং শুরু হচ্ছে। প্রথম টেস্টে যাদের নেগেটিভ এসেছে তারা আজ থেকে মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে অনুশীলন করতে পারবেন। অন্যদিকে বিসিবি’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে আক্রান্ত সাইফ হাসান ও নিক লি’কে দ্রুত আইসোলেশনে যেতে মেডিকেল বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও লি’র দ্বিতীয় দফায় করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়।

বিসিবি’র একটি সূত্রের দাবি, তেমন কোনো সমস্যা বোধ হচ্ছে না সাইফের । তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে দ্বিতীয় বার করোনা টেস্ট করাবেন। আর ফল নেগেটিভ এলেই দলে থাকতে পারবেন। সাইফের টেস্ট অভিষেক হয় গত বছর পাকিস্তান সফরে। দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তবে নিজের যোগ্যতা অনুসারে খেলতে ব্যর্থ হন এই ওপেনার। দুই ম্যাচে করেছেন ২৪ রান। লঙ্কা সফরে তামিমের সঙ্গী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ এই ওপেনারের।

গেল মার্চ থেকে বাংলাদেশে সবধরনের ক্রিকেট স্থগিত রয়েছে। তবে ৫ মাস পর দেশের ৫টি ভেন্যুতে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেয় বিসিবি। সেখানে শুরু থেকেই ছিল করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। প্রথম দিকে কোনো সমস্যা না হলেও সেপ্টেম্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিসিবিতে। তড়িঘড়ি করেই করোনা টেস্ট শুরু করে দেয়া হয়। গতকালও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা হবে ১৮ই অক্টোবর। শেষ দফা টেস্ট হবে সফরের ৭২ ঘণ্টা আগে। সেই সময় ক্রিকেটারদের বন্দি থাকতে হবে হোটেলেই। ফলাফল এলে সেখান থেকে উড়াল দেবেন শ্রীলঙ্কার পথে। লঙ্কা পৌঁছেও আরেক দফা করোনা পরীক্ষা হবে টাইগারদের। থাকতে হতে পারে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে। তবে বিসিবি লঙ্কা বোর্ডের সঙ্গে কোয়ারেন্টিনের সময় কমিয়ে আনতে দেনদরবার চালিয়ে যাচ্ছে। খসরা সূচি অনুসারে বাংলাদেশ দলের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ২৩শে অক্টোবর পাল্লেকেলেতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *