এমসি কলেজে গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলার বাদি, সাক্ষী ও আইনজীবীদের নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশ

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার বাদি, সাক্ষী ও বাদিপক্ষের আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিলেট পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় করা ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির মামলার বিচার একই সাথে একই আদালতে করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এছাড়া কোনো আসামির আইনজীবী না থাকলে তাকে আইনজীবী দিতে বলা হয়েছে। তবে আদালত পরিবর্তনে আবেদনে অনুমতি দেননি উচ্চ আদালত।
আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন ও ব্যারিস্টার এম আব্দুল কাইয়ুম লিটন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আজ শুনানি শেষে হাইকোর্ট দুই অভিযোগের বিচার একই আদালতে করতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে মামলার বাদি, সাক্ষী ও বাদিপক্ষের আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিলেট পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ফোনে হুমকি দেয়া হয়েছে। আমাদের বলা হয়েছে হাইকোর্টে কেন আবেদন করেছি।
ব্যারিস্টার এম আব্দুল কাইয়ুম লিটন বলেন, ‘ওই ঘটনায় করা মামলার দুই ধারায় চার্জশিট দেয় পুলিশ। ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়। তখন আমরা বলেছি, দু’টি অভিযোগের বিচার একসাথে হোক, কিন্তু ২৪ জানুয়ারি আমাদের ওই আবেদন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাকচ করে দেন। এরপর আমরা হাইকোর্টে আবেদন করি।’

তিনি বলেন, কোনো আসামির আইনজীবী না থাকলে তাকে আইনজীবী দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।

গত ১৭ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: মোহিতুল হক চৌধুরী। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে তরুণীকে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী শাহপরান থানায় মামলা করেন।

এ মামলায় আটজনকে অভিযুক্ত করে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তারা হলেন সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *