আ.লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি যুদ্ধের গল্প শুনেছে: মির্জা আব্বাস

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি বরং তারা মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ইতিহাস তৈরি করে মহানায়ক হয়েছেন। এজন্যই আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অপপ্রচার চালায়।
মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা: ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আজকের বাংলাদেশ” শীর্ষক ভার্চুয়াল সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জেডআরএফের বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।
মির্জা আব্বাস বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের গোড়া পত্তন করেছিলেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে কোনো কিছুই হতো না। তার বক্তব্য বহু মানুষ নিজ কানে শুনেছেন। তার বক্তব্যেই সাধারণ মানুষ অনুপ্রাণিত হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। বিশ্বের যে কয়টা দেশ যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। মাত্র ৯ মাস সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। পাকিস্তানী বাহিনী ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।
তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তানের থেকে পরিত্রাণ পেলেও ভারত থেকে পরিত্রাণ পায়নি। আমাদের সংগ্রাম শেষ হয়নি এখনো। এখনো পাকিস্তানের প্রেত্মাত্মা রয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তার বিরুদ্ধে দেয়া হয় রাজাকারের অভিধা। কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধে যে কাজটা করা দরকার ছিলো আওয়ামী লীগের তারা সেটা করেনি। তারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি বরং যুদ্ধের গল্প শুনেছে। আর শহীদ জিয়া ইতিহাস সৃষ্টি করে নায়ক হয়েছেন। তিনি যুদ্ধের গল্প তৈরি করেছেন। এজন্যই আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা অপপ্রচার চালায়।
মির্জা আব্বাস বলেন, যুদ্ধের সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বন্দি। আরেকজন নেত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানীদের রিলিফ খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এখানেই তফাৎটা। শেখ মুজিবুর ক্ষমতায় এসে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরের ইতিহাস দেশবাসী ভালোভাবেই জানে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিজয় দিবস জাতির জীবনে একটি মহিমান্বিত দিন। যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন বিশ্বের সব জাতির জন্য সুযোগ হয়নি। কিন্তু আমরা সেটা পেয়েছি। এই বিজয়ের নেপথ্যে ছিল অধিকারের প্রশ্ন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের তাড়িয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম ছিল ব্যতিক্রম। স্বাধীনতার পর ৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় যারা ছিলো তারাও পাকিস্তানিদের মতো গণতন্ত্র হত্যা করে। বিরোধী মতকে সহ্য করতে পারেনি। একটি রাজনৈতিক দলদেশে একদলীয় শাসন কায়েম করে। গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে বিরোধীদের গ্রেফতার করা হয়। অর্থাৎ ওই সময় আওয়ামী লীগ যা করেছে সেসবই হচ্ছে ফ্যাসিবাদের বাংলাদেশী সংস্করণ। একপর্যায়ে ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান পাদপ্রদীপের মতো উদ্ভাসিত হন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেন, আওয়ামী লীগের পুনর্জীবন দান করেন। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা পুন:প্রতিষ্ঠা করেন। এ ধরনের বিরাট সাফল্যের কৃতিত্ব জিয়াউর রহমানের।
রিজভী বলেন, আজকে ডিজিটাল আইন ও কালাকানুন করে মানুষকে দমানো যায় না। নতুন প্রজন্ম কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে ঠিকই জানতে পারছে যে, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের আসল হিরো। জুলুম করে আদালতকে দিয়ে জাতির পিতা বানানো হচ্ছে। পৃথিবীর কোনো দেশে জাতির পিতা বানানো বা রাজনীতির অবদান আইন দ্বারা নির্ধারণের ইতিহাস নেই। এসবই হয় স্বাভাবিকভাবে। তিনি বলেন, ইতিহাস কিন্তু চলে তার নিজস্ব গতিতে। জনগণ যেটা চাইবে সেটাই রাজনীতিবিদদের ধারণ করতে হবে। যা বিশ্বের উন্নত দেশসমূহে দেখা যায়। কিন্তু সরকার তাদের নিজেদের বিচারকদের দিয়ে আইন প্রণয়ন করছে। কারণ মুক্তিযুদ্ধে তাদের কোনো অবদান নেই। সেই অনুশোচনা থেকেই এসব করছে। প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের কোনো অবদান নেই বলেই যা মন চায় সেটাই জনগণকে মানতে বাধ্য করছে। ইতিহাসের মহানায়ক জিয়াউর রহমান। কাউকে ভিলেন বানিয়ে আর কাউকে নায়ক বানিয়ে সত্যকে চাপা দেয়া যায় না। জিয়াউর রহমানের নির্মল চরিত্রে কালিমা লেপন করা যাবেনা। দেশের স্বাধীনতা ও জিয়াউর রহমান সমার্থক।
জেডআরএফের বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই নিজের কাজ শেষ করেননি। তিনি জেড ফোর্স গঠন ও যুদ্ধ করেছেন রণাঙ্গণে। স্বাধীনতার জন্য লাখো-কোটি মানুষকে অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছিলেন। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেলেও প্রকৃত স্বাধীনতা পাই নি। স্বাধীনতার মূলনীতি আজ বিসর্জনের পথে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। যেখানে জনগণই হবে সকল ক্ষমতার মূল উৎস। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে। আজ জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে বিনাভোটের অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে পুনরায় দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে। এবারের বিজয় দিবসের প্রতিজ্ঞা হোক নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনমতের ভিত্তিতে একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করা। যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা করেছিলেন শহীদ জিয়া।
বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার মীর হেলালের উপস্থাপনায় সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। অন্যদের মধ্যে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা: হারুন আল রশিদ, ড. এ কে ফজলুল হক ভুঁইয়া, কৃষিবিদ আনোয়ারুন্নবী মজুমদার বাবলা, জেডআরএফের প্রকৌশলী মাহবুব আলম, ডা: শাহ মুহাম্মদ আমানউল্লাহ, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, ডা: শেখ মো: ফরহাদ, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, ডা: খালেকুজ্জামান দিপু, অধ্যাপক ড. মো: কামরুল আহসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও সভায় ঢাবির সাবেক প্রোভিস অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ড. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিল, ডা: এম এ সেলিম, ড. তৌফিক জোয়ার্দার, ডা: পারভেজ রেজা কাকন, আহাদ আহমেদ সহ শতাধিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সভার শুরুতে কুরআন তিলাওয়াত ও মুনাজাত করেন অধ্যাপক ড. মো: ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *