আ.লীগ প্রার্থীকে জাহাঙ্গীরের চ্যালেঞ্জ সাহস থাকলে ভোটারদের ভোট দিতে দেন

নিউজ দর্পণ,ঢাকা: আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিব হাসানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, যতই সন্ত্রাস করেন ঢাকা-১৮ আসনের ভোটাররা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা ভোট কেন্দ্রে যাবে। আমি আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করছি, ঢাকা আসনে সাহস করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করেন। একবার হলেও আপনাদের (আওয়ামী লীগের) জনপ্রিয়তা যাচাই করেন। আজ বৃহস্পতিবার গণসংযোগ শেষে উত্তরা-১০ নম্বর সেক্টরের সুইচ গেইট এলাকায় শহীদ মনসুর আলী কলেজ ও হাসপাতালের সামনে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্যকালে এ চ্যালেঞ্জ দেন তিনি।
প্রচারের ১৪তম দিনে দলের উত্তর সিটি করপোরেশনের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা তাবিথ আউয়ালকে সাথে নিয়ে গণসংযোগ করেন প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের গণসংযোগ মানেই জনতার ঢল। এটাকে ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও নৌকা সমর্থকদের বাধাকে বৃহত্তর উত্তরাবাসী চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে। যার কারণে নির্বাচন দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে ধানের শীষের পক্ষে প্রতিটি গণসংযোগই জনসমূদ্রে পরিনত হচ্ছে।
আজ বেলা ১১ টা থেকে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১০, ১১, ১২ সড়কসহ ওয়েস্টার্ন ল্যাবরেটরী, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, টাচস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় এস এম জাহাঙ্গীরের সাথে ছিলেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপি দলীয় মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব আহসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের ফখরুল ইসলাম রবিনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে গণসংযোগে জনতার ঢল নামে।

গণসংযোগে অংশ নেতাকর্মীদের মুখে আজও উল্লেখযোগ্য শ্লোগাণ ছিল ‘জিয়া তুমি আছ মিশে, সারাদেশের ধানের শীষে’ ‘খালেদার জিয়ার সালাম নিন, ধানের শীষে ভোটদিন’,‘তারেক রহমানের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন’,‘তাবিথ ভাইয়ের সালাম নিন ধানের শীষে ভোট দিন,‘জাহাঙ্গীর ভাইয়ের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন’, ‘১২ নভেম্বর সারাদিন, ধানের শীষে ভোট দিন,’ ‘সিল মারো ভাই সিল মারো, ধানের শীষে সিল মারো’, ‘এলাকাবাসীকে বলে যাই, ধানের শীষে ভোট চাই,’ ‘গণতন্ত্রের মার্কা,ধানের শীষ মার্কা’ ইত্যাদি শ্লোগাণে শ্লোগাণে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলে নেতাকর্মী সমর্থকরা। শ্লোগাণের বাড়তি আকর্ষণ ছিল ‘মা-বোনদের বলে যাই, ধানের শীষে ভোট চাই,’ ‘ও চাচা-মামা,নানা-নানী,দাদা-দাদী,মা-বাবা, ভাই-ভাবী, আপা-দুলাভাই, ভাই-বোনকে উদ্দেশ্য করে গানের ছলে ছলে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে ‘ভোট দিবেন কিসে ধানের শীষে’নেতাকর্মীদের দেয়া শ্লোগান বেশ আকৃষ্ট করে।
এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের ভোট। আপনারা সারাদেশে অনেক নির্বাচন এই সরকারের আমলে দেখেছেন। এই সরকারের জনগণের কোনো আস্থা নেই, বিশ্বাস নেই। যার কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ২৯ ডিসেম্বর রাতে করেছে। জনগণকে তারা ভোট কেন্দ্রে আসতে দেয়না। আগামী ১২ নভেম্বর জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। আওয়ামী লীগকে বলব, আপনারা যতই সন্ত্রাস করেন ১২ নভেম্বর জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাবে এবং ধানের শীষের ভোট দেবন। জনগণ ধানের শীষকে বিজয়ী করে দেশনেত্রী গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়ার বিজয় শুরু করবে।

ধানের শীষের এ প্রার্থী বলেন, আমরা যেখানেই গণসংযোগে নামি, সেখানেই হাজার হাজার জনতা আমাদের সাথে নেমে এসেছে। এটা কিসের আলামত? এই সরকারকে যে মানুষ চায় না, তারই আলামত। জনগণের একটাই উক্তি ‘এক দফা এক দাবি, শেখ হাসিনা কবে যাবি,’। এই ঢাকা ১৮ আসনের জনগণ শেখ হাসিনাকে আর দেখতে চায় না। আমাদের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের প্রার্থী, তিনি তার বক্তব্যে অনেক আজে-বাজে কথা বলেন। আমি শুধু আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে মনে করিয়ে দিতে চাই,আপনার নেত্রী, এই এলাকার জনগণ যা কিছু বলে সেগুলো কান পেতে শুনে নিয়েন। আমি আপনার সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। শুধু বলতে চাই, অতীতে যত চুরি করেছেন, জনগণের মধ্যে আপনার ও আপনার দল এবং সরকারের অবস্থান বুঝতে পারার জন্য বুকে যদি সাহস থাকে তাহলে গণতান্ত্রিক উপায়ে মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ দিয়ে দেখেন। আপনাদের অনৈতিক কর্মফল মূল্যায়ন ও আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য হলেও ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু করেন।

পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা আশাকরি, ভোটের মাঠে সবাইকে সমান সুযোগ দিবেন। আমাদের নেতাকর্মীদের বিনাকারণে ডিস্টার্ব করবেন না। এই আসনের আমাদের কোনো নেতাকর্মীর নামে ওয়ারেন্ট নেই। অপনারা যখন তখন যার বাসায় হানা দেন, মামলা দিবেন এখান থেকে প্রশাসনকে ফিরে আসতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি পুলিশেও অনেক ভালো লোক আছে। যারা বিবেকবান তারা বিবেক দিয়ে গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কাজ করবেন।

তিনি বলেন, আমরা যেখানে কর্মসূচি দেই আওয়ামী লীগ সেখানেই পাল্টা কর্মসূচি দেয়। তারা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে চায়। আমাদের দেশেনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়েক তারেক বহমানের নির্দেশ কোনো রকম ঝামেলায় জড়ানো যাবে না। তার মানে ধৈর্য ধরছি, আমরা দুর্বল না।

গতকাল বুধবার বিকালে নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বৈঠকে করে বলে এসেছি, আপনারা যদি আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হন, আপনারা যদি আমাদের ভোটাদের কাছে যেতে না পারি, তাহলে কিন্তু ঢাকা-১৮ আসনের নেতাকর্মী ও জনগণকে সাথে নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বসে থাকব। আপনারা বলেছেন, এবার ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ হবে না-এটা আমরা বিশ্বাস করতে চাই। বিদায় বেলায় একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারেন তার প্রমান দিয়ে যান।
দেশে বর্তমান ধর্ষণ-নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গ টেনে জাহাঙ্গীর বলেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে চলমান আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *