আ.লীগের রক্ত লোহার তাই পদত্যাগ করে না: রিজভী

নিউজ দর্পণ,ঢাকা: সরকার মাঝে মাঝে কিছু ম্যাজিক দেখানোর চেষ্টা করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

ধর্ষণের বিরুদ্ধে নতুন আইনের প্রসঙ্গ টেনে সরকার প্রধানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,’আপনি নারী-শিশু নির্যাতন বিরোধী আইন করেছেন এটা হচ্ছে লোক দেখানো।এই সরকার মাঝে মাঝে এরকম কিছু কিছু ম্যাজিক দেখানোর চেষ্টা করে। নারী নির্যাতন বিরোধী যে প্রচলিত আইন আছে সেই আইনেই তো সাতটি ধারা আছে মৃত্যুদণ্ডের। আপনি মনে করেছেন আবার নতুন করে মৃত্যুদণ্ডের আইন করে আপনি জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করবেন।যে বিদ্যমান আইন ছিল সেই আইনেরই তো এতদিন প্রয়োগ হয়নি কারণ ইউএনও ডিসি-এসপিরা আপনাদের কথার বাহিরে একচুলও এদিক-ওদিক নড়ে না, যদি যেতে পারত দেশে আইনের শাসন থাকতো তাহলে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতারা সারা দেশে নারীদের যে সম্ভ্রমহানি চলছে মহামারী চলছে এটা করতে পারত না।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামে ইতিহাস বিকৃত করে নাটক বানানোর প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন,’বক্তব্য দেয়ার মত আর কিছু আসছে না আমাদের যা শব্দ ভান্ডার এই সরকারের একের পর এক দৃশ্য ঘটনার অপকর্মে আর কোন নতুন শব্দ আমরা খুঁজে পাচ্ছিনা। এই সরকার যে উচিত-অনুচিত ইথিকসের ধারধারে না এসব ব্যাপারে কি আর বলবো। পৃথিবীর কোন সভ্য দেশ হলে কোন সরকারের সময়ে যদি এত অনাচার ঘটে তাহলে সে পদত্যাগ করত। এই পদত্যাগ টা আওয়ামী লীগের বিধানে নাই। আমার এক ভাগ্নে বলেছে যে আওয়ামী লীগের রক্ত লোহার মত শক্ত এই রক্ত কখনো পদত্যাগ করে না।

তিনি বলেন,’ক্ষমতা ছাড়তে যাবে কেন? এই দেশটা তাদের ব্যক্তিগত তাবেদারী বাবার মৃত্যুবার্ষিকী এক মাস ধরে হয় আগস্ট মাস। কিন্তু তাজরিনের যে শ্রমিকরা ১১৪জন অদৃশ্য হয়ে গেল এরা কি এই বাংলার সন্তান নয়। এদের অধিকার এদের বেঁচে থাকা ভ্রুক্ষেপই। রানা প্লাজায় ১১ জন মারা গেছে এই সরকারের কাছে গরীব শ্রমিকেরা কিছুই না শুধুমাত্র শেখ পরিবার প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার এই সবকিছু স্বনামধন্য তাদের অপরাধ সবকিছুই মাপ।

রিজভী বলেন,’আপনারা দেখেছেন প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন নিক্সন চৌধুরীর একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে ইএনওকে ধমকাচ্ছে।কোন ভদ্র লোক এভাবে বলতে পারেনা। চরভদ্রাসনের ইএনও ভদ্রমহিলা তার সাথে যে কথাগুলো বলেছেন এটা কি কোনো ভদ্র মানুষ বলতে পারে? রাজনীতিবিদদের তো রাজনীতি ভাষা হতে পারে শক্ত কথা হতে পারে কিন্তু আপনারা শুনে দেখবেন চরভদ্রাসনের ইউএনও ডিসির সাথে নিক্সন চৌধুরী যে ভাষায় কথা বলেছে এটা পাড়া-মহল্লার বেপরোয়া গুন্ডারা ছাড়া আর কেউ কথা বলতে পারেনা। এই ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ হয় কেন আজকে ধর্ষণের মহামারী, সম্ভ্রমহানির মহামারী, নারী ও শিশু ওপরে কেন, ওরা মনে করে ওরা যে কারো ওপর হামলা করতে গালাগালি করতে এটা ওদের বৈধ অধিকার।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,’চরভদ্রাসনের ইএনও ডিসির সাথে যে ভাষায় কথা বলেছে এই রেকর্ডটা যদি কেউ শুনে তারাই ভয় পাবে ওরে সর্বনাশ। প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন এমপির কথার মধ্যে দিয়ে মনে হয় এই দেশের জন্য কি ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে?২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এই দেশ?এই দেশ ও জনগণের না?মনে হয় এই দেশ অফ দি আওয়ামী লীগ বাই দি শেখ হাসিনা এবং ফর দি শেখ হাসিনার পরিবার। না হলে এ কথা বলতে পারে?

সিভিল প্রশাসন পুলিশের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন,’যে আনুগত্য দেখিয়েছেন জনগণের অধিকার হরণ করে রাত্রে ব্যালট বাক্স পূরণ করেছেন তার প্রতিদান দিচ্ছেন। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ আওয়ামী লীগের দ্বারা আপনারা উৎপীড়িত অত্যাচারিত এই কথা কাউকে বলতে পারছেন না এই অভিযোগ আপনারা কারো কাছে দিতে পারছেন না। কারণ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়রা আপনাদেরকে ধমক দিচ্ছে। আপনারা ভীতুর মতো সেখানে নতজানু হয়ে আছেন। আপনারা পাল্টা প্রতিবাদ করছেন না আপনারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আপনারা আইন প্রয়োগ করবেন এই ধরনের হুমকি এটার জন্য আইনে তার বিধান আছে। সেই বিধান প্রয়োগ করার ক্ষমতা নাই। যদি বলা হয় বিএনপির মিছিল এর মধ্যে লাঠিচার্জ করুন বলা শেষ হওয়ার আগেই তারা লাঠি চার্জ করবে গ্রেপ্তার করবে কারাগারে নিয়ে যাবে।আজ দীর্ঘ ১২ বছর বিরোধী দলের ওপর ট্রাক চাপা দিয়ে দমন নিপীড়ন করেছেন আওয়ামী লীগের কথায় প্রধানমন্ত্রীর কোথায়। প্রধানমন্ত্রী অপশাসন, এটা কি আইনের শাসন বলব? এটা কি গণতন্ত্রের শাসন বলবো? নাকি গুন্ডামির শাসন বলবো? প্রধানমন্ত্রী একেবারেই গুন্ডামি শাসন চালু করেছে দেশে। তাই তার ভক্তকুল অনুসারীরা মনে করে প্রধানমন্ত্রী অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে রাতে নির্বাচন করে তাই দেশের যত সুন্দর মেয়ে আছে সবার প্রতি আমাদের অধিকার আছে।এটাই তারা মনে করছে।

তিনি বলেন,’আপনারা দেখুন দেশে যত নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে তার অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের লোকজন একটার পর একটা এমসি কলেজের ঘটনার পরের দিনই সিলেটে ছাত্রলীগ এক নারীর উপর তার সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছে। তাহলে আপনাদেরকে বুঝতে হবে বেপরোয়া আজকের যে পরিস্থিতি আজকে যে অপরাধীরা অপরাধ করছে তার কারণ হচ্ছে শাসক গোষ্ঠী যারা দেশ শাসন করছে তারা নিজেরাই তো অপরাধ করছে। তারা নিজেরাই তো একের পর এক অপকর্ম করছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন,’ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছেন আপনি সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার জন্য করছেন না? আজ কত সাংবাদিক এবং যারা ফেসবুক সোশাল মিডিয়া অপারেট করে তারা আজ কারাগারের মধ্যে। উনার লোকেরা অপরাধ করতে উৎসাহিত হচ্ছে তাদের কিছুই হচ্ছে না। কোন কিছুই মানছে না। নিক্সন চৌধুরী সেই পরিবারের একজন আত্মীয় তো বটেই সে যেভাবে ধমক দিচ্ছে ওই ডিসি উত্তর দিতে পারছে না যে স্যার জি স্যার বলছে অনুগত হয়ে যাচ্ছে। একজন অপরাধ করেছে  সেইজন্য গ্রেফতার করেছে আর এই গ্রেফতারের জন্য কি ধমক এমন হুমকি প্রশাসন একেবারেই কাচুমাচু হয়ে গেছে। কই আছে কেবিনেট তো কোন ব্যবস্থা নিল না। ক্যাবিনেট সেক্রেটারি সচিব কোন ব্যবস্থা নিল না। পারবেনা তারা সবাই নিজের বিবেককে বন্দি রেখেছে শেখ হাসিনার কাছে। কারণ ওনারাই তো অপরাধ করেছে অফিসার্স ক্লাবে বসে মিটিং করেছে। যে কিভাবে২০১৮ নির্বাচন কব্জা করা যায় আগে এখন তারা নির্বাক। আজ প্রশাসন ক্যাবিনেট সেক্রেটারি সচিবরা নির্বাক। কিছুই বলার নেই কারণ আওয়ামী লীগের পক্ষে তারা যে অপরাধ করেছে তার জন্য তারা তাদের কিছুই বলার নেই। বলার যদি কিছু থাকতো তাহলে দেশে আজ এত অরাজকতা হতো না।

রিজভী বলেন,’এক চোখ না দু চোখ কানা করে বসে আছে সরকার। কোন কিছুই যায় আসে না।তোরা যে যা বলিস ভাই আমার সোনার হরিণ চাই। আমরা যদি সোনার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারি আরে নারী ধর্ষণ শিশু নির্যাতন ব্যাংক লুট টাকা পাচার ক্যাসিনিও এগুলো কিছুই আসে যায় না।কারণ আমি গড়ে তুলেছি আমার ভাবধারার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন ওরা কিছুই বলতে পারবে না আওয়ামী লীগের এমপিরা যদি চড় থাপ্পড়  দেয় প্রশাসন চুপ থাকবে।

ইউএনওকে নিক্সন চৌধুরীর ধমক দেয়া পরিকল্পতি দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন,’এই যে ঘটনা এটাও কিন্তু পরিকল্পিত শেখ হাসিনা কোন অপরিকল্পিত কাজ করে না। নিক্সন ধমক দিয়েছে এটা নিয়ে কথা বলবে বিরোধীদল আর সারা দেশে ধর্ষণ নারী নির্যাতন এগুলো চলতে থাকুক। আলুর দাম কেজি ৬০টাকা ইলেকট্রিক শখ করে এগুলো নিয়ে আর কেউ কথা বলবে না।এইজন্য বলেছি রাষ্ট্রীয় মদদে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নারী নির্যাতন হচ্ছে।

তিনি বলেন,’এই শেখ পরিবারে একটাও ভদ্র লোক নেই।আমি আজকে নির্দ্বিধায় বলছি শেখ পরিবারের একটাও ভদ্র লোক নেই। গুন্ডাপান্ডা ছাড়া আমরা এই পরিবারে কোনো ভদ্রলোক দেখি নাই।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল,সহ শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম,সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *