আশ্রয়ণ প্রকল্প : ঘর নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ভাঙন!

নিউজ দর্পণ, কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণাধীন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভূমিহীনদের নামে ২ শতাংশ খাসজমি বরাদ্দ থেকে শুরু করে ঘর নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও নিম্নমানের দ্রব্যাদি ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগে জানা যায়।
আজ রোববার উপজেলার বাজরা ও জগৎচর এলাকায় তৈরিকৃত ব্যারাকের সুবিধাভোগী ৪ নম্বর ঘরের মালিক মো. বাচ্চু মিয়া, ৭নং ঘরের মালিক জহুরা বেগম, ৯নং ঘরের মালিক মো. সবুজ মিয়া ও ১১নং ঘরের মালিক রোকিয়া বেগমের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরের চাবি বুঝে পেলেও এখন পর্যন্ত ঘর বুঝে পাননি তারা। এলাকার মো. চান্দু মিয়া (৪৫), মো. মিজান (৩৫), মো. মাসুদ মিয়া (৪৫) ও মো. ফারুক মিয়া (৫০) অভিযোগ করে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু, কাঠ, টিন ও প্রয়োজনের তুলনায় সিমেন্ট কম ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফলে দেয়াল থেকে আস্তর ধসে পড়ছে। ভেঙে পড়ছে দেয়াল ও পিলার। নির্মাণকৃত ঘর কোনটা উঁচু কোনটা আবার নিচু। মনে হচ্ছে নিচু ঘরে ইট কম ব্যবহার করা হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ হওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়েও বিপদের আশঙ্কা রয়েছে অনেকের। এ ছাড়া অভিযোগ উঠেছে সুবিধাভোগীদের নিকট থেকে টাকা-পয়সা নেওয়ার।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসসূত্রে জানা যায়, ২০২০- ২১ অর্থবছরে অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ ২-এর আওতায় এ উপজেলায় ২০টি ভূমিহীন পরিবারকে ২ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে একটি করে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন কাজের দেখভাল করছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
এ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ বাস্তবায়নে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী। ঘর নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছেন প্রকল্পের সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার।
ভূমিহীনদের মাঝে ২ শতাংশ করে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সারমিনা সাত্তার। তিনিও বিভিন্ন ইউনিয়নের নায়েবদের সহযোগিতায় প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে সরকারি খাসজমির দলিল রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে জমি ও গৃহ আছে এমন স্বচ্ছ ব্যক্তিদের মধ্যে ২ শতাংশ করে ভূমি রেজিস্ট্রি করে দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। এলাকাবাসীর ধারণা কোনো লাভ ছাড়া তিনি এ কাজগুলো করেননি।
গত ২৩ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব ঘর উদ্বোধন করলেও এখন পর্যন্ত ঘর নির্মাণকাজ সমাপ্ত না হওয়ায় ভূমিহীনদের মধ্যে এসব ঘর বুঝিয়ে দিতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খাদিজা আক্তারের নিকট ঘর নির্মাণের ওয়ার্ক অর্ডার দেখতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলুন।
ঘর নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ হওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী লিখিত অভিযোগ করতে বলেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছির মিয়া বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে কোনো রকম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। যদি কেউ নিম্নমানের দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার ঘর নির্মাণ করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে তা হলে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *