আল্লাহর দোহাই প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সুন্দর জীবন দিয়েন না: রিজভী

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: আল্লাহর দোহাই প্রধানমন্ত্রী আপনি আর জনগণকে সুন্দর জীবন না দেওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসকাবের সামনে বাংলাদেশ শিক সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর মোর্শেদ হাসান খান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক ওয়াহিজ্জামান অ্যাপোলোকে অন্যায় ভাবে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কালকে একটা কথা বলেছেন মুজিববর্ষে মানুষকে আমি সুন্দর জীবন দিব। আল্লাহর দোহাই প্রধানমন্ত্রী আপনি আর জনগণকে সুন্দর জীবন দিয়েন না। আপনি মুজিববর্ষের শুরু থেকে এই ছয় মাসে যে সুন্দর জীবন দিয়েছেন, তাতেই ফেনী থেকে বেগমগঞ্জ, বেগমগঞ্জ থেকে সিলেট, সিলেট থেকে সিরাজগঞ্জ শুধু আর্তনাদ। এই আর্তনাদের জীবন আপনি দিয়েছেন। আপনি যদি আরও ছয় মাস সুন্দর জীবন দিতে যান, তাহলে এই জীবনে আরও কত আর্তনাদ-হাহাকার ও আহাজারি বাতাসে ধ্বনিত হবে তার কোন ঠিকানা নাই।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনার এই ছয় মাসের সুন্দর জীবন হবে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের। তারা আনন্দে থাকবে আরও কত ক্যাসিনো গড়ে উঠবে। কত তরুণী লাঞ্ছিত হবে। আপনি আর সুন্দর জীবন দিয়েন না। এবার আপনি পদত্যাগ করুন। জনগণ একটু স্বস্তিতে থাকতে পারবে।

মাদকের বিস্তার মন্ত্রিসভা পর্যন্ত লাভ করেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে স্বাস্থ্য সেবা পেয়েছেন, আমরা করোনায় জনগণকে সেই স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনে হয় এটা ‘গঞ্জিকার’ প্রভাবে বলেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকারি হিসেবে ৭০১ জন রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঘরের মধ্যে মারা গেছেন। বাড়ি থেকে হাসপাতালে যেতে এ রকম রোগী ৪০ থেকে ৫০ জন মারা গেছেন। ৩ ল ৭৪ হাজার সংক্রমণ হয়েছে এবং মারা গেছে অসংখ্য জন। এরপর তিনি (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) বলেন ট্রাম্প যে সুবিধা পেয়েছেন, যেভাবে চিকিৎসা হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের। এই যে ‘চাপাবাজি’ এই যে মিথ্যাচার, তা মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকার যে পরিসংখ্যান দিচ্ছেন এবং ডিজি হেলথ সার্ভিসের যে পরিসংখ্যান দিচ্ছেন এর মধ্যে মিল নেই। করোনায় গ্রামের মানুষ হাসপাতালে আসতে পারছে না, ফলে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে রাস্তাঘাটে বাড়ির মধ্যে। এই পরিসংখ্যান কিন্তু সরকারের নেই অথচ এই ‘অপদার্থ’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প যে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন দেশের জনগণ সেই চিকিৎসা পাচ্ছেন। এই লোকটাকে কেন টিকিয়ে রেখেছে জানেন? ধনী লোক তো সরকার তার কাছ থেকে অনেক টাকা পয়সা নিয়েছেন। সেটা না হলে এই ধরনের একজন ব্যর্থ ও অকাট মূর্খ লোক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন চিন্তাই করা যাবে না।

কারও দয়ায় মতায় নেই আওয়ামী লীগ’ গতকাল দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জনগণের দয়ায় আপনারা তো মতায় নেই এটা তো সত্যি। সত্যি কথাই বলেছেন ওবায়দুল কাদের। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে তারা তো মতায় নাই। তারা অন্য দেশের দয়ায় মতায় আছেন। তবে দেশের জনগণের দয়ায় নয়।

রিজভী বলেন, ‘সরকারের গত ১২ বছরের শাসনামলে শুধু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন হয়েছে। বাদ জায়নি ৫ বছরের শিশু থেকে ৭২ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্তও। এগুলোর চমৎকার উন্নয়ন ঘটিয়েছেন তিনি। এছাড়া এই আমলে মাদকের ছড়াছড়ি। মাদক ছাড়া কোনো কিছু কল্পনা করা যায় না। মাদকের সঙ্গে মাদক কারবারিরা যুক্ত থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে কিছু মন্ত্রীর কথা শুনে মনে হচ্ছে মাদকের বিস্তার মন্ত্রিসভা পর্যন্ত লাভ করেছে।

ঢাবির শিক মোর্শেদ হাসান খানকে চাকুরিচ্যুত করার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মোরশেদ খান একজন তারুণ্যদীপ্ত শিক। তার স্ত্রী যখন ক্যান্সারে ভুগছেন, সেই সময় তিনি বার্তা পেলেন তার চাকরি নেই। শুধুমাত্র ভিন্নমতের কারণে। আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ছিলাম, সিন্ডিকেট মেম্বার ছিলাম। ৭৩ এর অ্যাক্টে যে বিধান রয়েছে সেটা আমার মোটামুটি জানা আছে। ভিন্নমতের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকের চাকরি যেতে পারে না। নৈতিক স্খলনের জন্য হয়তো তার কিছু হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আজকে মোরশেদ খান এবং অ্যাপোলো তাদের যে চাকরিচ্যুতি এটাও হচ্ছে ভিন্নমতের কারণে। তারা শুধুমাত্র একটি প্রবন্ধ লিখেছেন জিয়াউর রহমানের উপরে। এত কাপুরুষ, এত দুর্বল সরকার যে জিয়াউর রহমানের উপর একটি প্রবন্ধ লেখাতে তারা আতঙ্কিত হয়ে গেছে। এই কাপুরুষতার কারণেই তাদের অনুগত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকদের দিয়ে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

ঢাবি ভিসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, নৈতিক স্খলনের জন্য দায়ী বর্তমান এই ভাইস চ্যান্সেলর। ভাইস চ্যান্সেলরকে গলায় গামছা দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে আনা দরকার। তা না হলে সু-শিা থাকবে না। প্রকৃত শিায় শিার্থীরা শিতি হতে পারবে না। সরকারের প্রকৃতভাজন হওয়ার আশায় এই ধরনের একজন ভাইস চ্যান্সেলর নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির শিা বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *