আরাফাত রহমান কোকোর ৫১তম জন্মদিন আজ

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ৫১তম জন্মদিন আজ । তিনি ১৯৬৯ সালে ১২ আগস্ট ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি কোকো নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। শিক্ষা জীবনে ঢাকার বি এফ শাহীন কলেজে লেখাপড়া করেন আরাফাত রহমান কোকো। আরাফাত রহমান কোকো শর্মিলা রহমান সিথীকে বিয়ে করেন। তাদের দুই মেয়ে। যাদের নাম জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান।

আরাফাত রহমান কোকো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের সাবেক চেয়ারম্যান ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, ক্রীড়া সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন।
আরাফাত রহমানের জন্ম ও বেড়ে উঠা: ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেই ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। ১৯৬৯ সালে জিয়াউর রহমান স্বপরিবারে ঢাকায় চলে আসলে কিছুদিন জয়দেবপুরে থাকার পর বাবা জিয়াউর রহমানের চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় বসবাস করেন তারা। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে মায়ের সাথে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে পরিবারের সাথে ঢাকায় চলে আসেন কোকো। এরপর বড় খালা খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন পরিবারের সবাই। ২ জুলাই সিদ্ধেশরীতে জনাব এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাক সেনারা মা ও বড়ভাই তারেকসহ আরাফাত রহমান কোকোকে বন্দি করে। তাঁরা ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মা-ভাইসহ তিনি মুক্তি পান। ব্যক্তি জীবনে বাবা জিয়াউর রহমান সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধান ও রাষ্ট্রপতি, মা বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী, এবং বড় ভাই তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেও আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন অনেকটা পর্দার আড়ালে। রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ তার ছিল না। ব্যবসা বাণিজ্যসহ সামাজিক কর্মকান্ডেই সময় ব্যয় করতেন তিনি।

আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিনে কর্মসূচি: মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ৫১তম জন্মদিন ১২ই আগস্ট।কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে নানা কর্মসুচি হাতে নিয়েছে বিএনপি।

কর্মসুচির মধ্যে রয়েছে আগামীকাল বুধবার সকাল দশটায় মরহুমের কবর জিয়ারত।মরহুমের কবর জিয়ারতে থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। দুপুরে বিভিন্ন এতিমখানায় খাবার বিতরন।বাদ আছর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আরাফাত রহমান। বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন। ২৮ জানুয়ারি আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ দেশে আনা হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা গুলশান চেয়ারপার্সন অফিসে অবরুদ্ধ ছিলেন সেখানেই মা বেগম খালেদা জিয়া ছেলের মরদেহ দেখে শেষ বিদায় জানান। ওই দিনই বায়তুল মোবারক জাতীয় মসজিদে নামাজের জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। মরহুমের নামাজের জানাজায় লক্ষ-লক্ষ মানুষের উপস্থিতি ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *