আন্দোলনের মুখে আইন প্রণয়ন-সংশোধন, সমস্যার সমাধান কি হচ্ছে?

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচলে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বাড়তে থাকায় ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। তীব্র আন্দোলনের মুখে ওই সময় ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ পাস করা হয়। আইনে সড়ক দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডও রাখা হয়। কিন্তু সেই আইনের পরও লাগাম টানা যাচ্ছে না যানবাহনের বেপরোয়া গতির। সেজন্য সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।
অন্যদিকে, এ বছর দেশজুড়ে একের পর এক ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদে তুমুল আন্দোলনের মুখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করা হয়। আগে কেবল সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বা ধর্ষণের পর হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থাকলেও আইনের সংশোধনীতে ধর্ষণেরও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়। কিন্তু এমন কঠোর আইন হওয়ার পরও থামছে না পাশবিকতা-বর্বরতা। ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে।
এছাড়া, দীর্ঘকাল ধরে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকাবস্থায় আসামি বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা চলে আসছে। হঠাৎ এটি বাড়তে থাকায় সচেতন মহলের দাবির মুখে ২০১৩ সালে পাস হয় ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন’। ওই আইন যেন কাগজে-কলমেই থেকে গেছে। সিলেটসহ কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, হেফাজতে মৃত্যু যেন বন্ধ হওয়ার নয়।
সমাজের সমস্যা বা সংকটের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলন বা জনদাবির মুখে আইন প্রণয়ন বা সংশোধন হলেও সমস্যা কাটছে না কেন? এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, যে কারণে আইন সংশোধন হচ্ছে, সরকারি সিদ্ধান্ত আসছে, সে সমস্যার মূল চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। সমস্যার মূল চিহ্নিত করতে হবে। সরকারের দায়িত্ব আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। কোন অপরাধের বিচার কতদিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে, সেটা আইনে নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।
আইনবিদরা বলছেন, কেবল আইনের কঠোর প্রয়োগই অবস্থা বদলাতে পারে। পাশাপাশি শিশুকাল থেকেই পাঠ্যপুস্তকে নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এবং সে অনুযায়ী পাঠদান করা হলে ইতিবাচক চরিত্র গঠন হবে। যার প্রভাবে সমাজ থেকে অপরাধ কমবে। পাশাপাশি যাবতীয় সমস্যার বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক সচেতনতা।
আইন সংশোধন-প্রণয়নের পরের চিত্র:
শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে নিরাপদ সড়ক আইন পাস হয়। আইনে গাড়ি চালিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষ হত্যা করলে মৃত্যুদণ্ড এবং বেপরোয়াভাবে চালিয়ে কারও মৃত্যু ঘটালে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। শাস্তি এমন কঠোর করা হলেও ২০১৯ সালে সড়কে পাঁচ হাজার ৫১৬টি দুর্ঘটনায় ঝরে সাত হাজার ৮৫৫টি প্রাণ। এই প্রাণহানি ২০১৮ সালের তুলনায় ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি। দুর্ঘটনার মধ্যে গাড়িচাপা দেয়ার ঘটনা ছিল ৫৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ১৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ।
চলতি বছরের দুই মাসের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, গত আগস্টে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৮৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫৯ জন। এর মধ্যে ৫২ দশমিক ৮৩ শতাংশ ছিল গাড়িচাপা এবং ২৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা। সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ২৭৩টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩০৪ জন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ছিল ৩৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে এক গৃহবধূকে স্বামীর সামনে পালাক্রমে ধর্ষণ এবং ৪ অক্টোবর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে একদল যুবকের পাশবিক কায়দায় নির্যাতনের ভিডিও ছড়ানোর পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০ এর কয়েকটি ধারা সংশোধন করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো— ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আগের আইনে ধর্ষণের শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। গত ১৪ অক্টোবর এ সংশোধিত আইন অধ্যাদেশ আকারে জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
কিন্তু এরপর ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মাত্রা যেন বেড়ে যায়। একে একে আসতে থাকে পাশবিক নির্যাতনের আরও খবর। গত ১৭ অক্টোবর বান্দরবানে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পরদিন ১৮ অক্টোবর সদর থানায় মামলা হয়। ১৮ অক্টোবর ফেনীতে এক আদিবাসী তরুণীকে দুই দফা ধর্ষণ, ১৯ অক্টোবর ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় নাচের শিক্ষিকাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২১ অক্টোবর রাতে গাজীপুরের কাশিমপুরের কারখানা থেকে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক পোশাক শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, একই দিন ঢাকার সাভারের ভাগলপুর এলাকায় হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ, ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোবাইলে গান দেখানোর লোভ দেখিয়ে ১৩ বছর বয়সী শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ২৮ অক্টোবর বরিশালে শিশুকন্যাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাকে ধর্ষণসহ আরও কিছু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে।
এদিকে, নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা অমর্যাদাকর আচরণ কিংবা শাস্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সনদের কার্যকারিতা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন’ হলেও এর কার্যকারিতা নিয়েও থেকে গেছে প্রশ্ন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গ্রেফতারের আগে ও পরে ১২ আসামির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার মামলা করেনি।
২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের হত্যা মামলার আসামি রাজা ফকিরের (২২) মৃত্যু, পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মাসুদ রানা (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু এবং ১০ অক্টোবর সিলেটের কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে বর্বরোচিত নির্যাতনে রায়হান আহমেদের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনা এ আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
আইনবিদরা যা বলছেন:
এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, আইন সংশোধন করে তখনই লাভ হবে, যখন ওই আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ হবে। ধরুন, ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। এখন যদি ধর্ষণের কয়েকটি মামলায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করা যায়, তবে দেখবেন এর প্রভাব সমাজে পড়েছে। অর্থাৎ আইনের কঠোর প্রয়োগ হলে অপরাধীরা কিছুটা হলেও ভয় পাবে। ঠিক একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও আইনের কঠোর প্রয়োগ হতে হবে। আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদি পক্ষপাতিত্ব করা হয়, তখন যত কঠিন আইনই করুন না কেন লাভ হবে না।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বাংলাদেশে প্রচুর আইন আছে, কিন্তু এর ব্যবহার নেই। আইন যারা ব্যবহার করবেন, তাদের প্রয়োগের আন্তরিকতা নেই। সে কারণে যখন কোনো একটা ইস্যু আমাদের সামনে আসে, তখন একটা আন্দোলন হয়। মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার তৈরি হয়। তখনই দেখা যায়, দেশে আইন সংশোধন কিংবা নতুন একটা আইন তৈরির জন্য আইনপ্রণেতাদের তোড়জোড়।
তিনি বলেন, এটা আসলে গণতান্ত্রিক কিংবা একটা সভ্য দেশে কাম্য নয়। কোনো পার্টিকুলার ইস্যুর ওপরে নয়, বরং আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে— এটাই হচ্ছে মানুষের প্রত্যাশা। আমাদের দেশে বিদ্যমান আইনগুলোতে শৈথিল্য থাকে, ঠিক মতো প্রয়োগ করা হয় না। আইন যারা প্রয়োগ করেন তারাও আন্তরিক থাকেন না।
ব্যারিস্টার কাজল বলেন, ‘অতি সম্প্রতি ধর্ষণের যে ঘটনা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, অপরাধীরা ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ার কিংবা অন্যান্যভাবে ক্ষমতার বলয়ে সম্পৃক্ত। এক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। দেশের ভেতর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, আইনের শাসন, মানবাধিকারের যদি সমন্বয় থাকে তাহলে কোনো সমস্যা হয় না। আমাদের প্রচলিত বা বিদ্যমান আইনই এসব অপরাধ নির্মূল বা দমনের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা আমরা দেখি না। বরং আইনের প্রয়োগ ভিন্ন রকম। যেটা হচ্ছে সেটা আইনের শাসনের সবচেয়ে বড় বাধা।’
এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, মৃত্যুদণ্ড করলে যদি অপরাধ কমতো তাহলে অন্যান্য যে অপরাধ বা হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, সেগুলো কি কমছে? পুলিশের হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন আছে, সেটা কি কমেছে? কমেনি। সুতরাং আইন করাটাই মুখ্য উদ্দেশ্য নয়, যে আইন আছে সেটা যথাযথভাবে বাস্তবায়নই মুখ্য উদ্দেশ্য।

মনজিল মোরসেদের মতে, আইনের যে মেসেজ জনগণের কাছে থাকা দরকার যে, অপরাধ করলে সাজা হবেই নিশ্চিত, এ মেসেজ বর্তমানে নেই। অনেক কারণে নেই। এর মধ্যে অন্যতম হলো, আইনের শাসনের দুর্বলতা। প্রশাসনের যারা আইন প্রয়োগ করবেন, সেখানে তাদের স্বাধীনতাটাও অনেকটা নিয়ন্ত্রিত।
‘কারণ যারা পলিটিক্যালি পাওয়ারফুল বা অর্থশালী, বিত্তশালী; তাদের কথা মতো অনেক জায়গায় প্রশাসনকে চলতে হয়। অতএব সেসব স্থানে যখন অপরাধ হয়, অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এই আইনের দুর্বলতাটা যদি কাটাতে না পারেন, তাহলে মৃত্যুদণ্ডের আইন করলেও হবে না। মামলা হবে, দীর্ঘদিন তদন্ত হবে না, পরে সাক্ষ্যপ্রমাণও হবে না। আরও একটা জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাজাটা দ্রুত নিশ্চিত করা।’
তিনি বলেন, এসব ঘটনা কমানোর জন্য অনেক কাজ করতে হবে। তবে, সোস্যাল হারমনি (সামাজিক মেলবন্ধন) যেটা, সেটা তো অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। এসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। এই যে ছেলে মাকে মেরে ফেলছে, মা সন্তানকে মেরে ফেলছে— এসব ঘটনা তো আগে তেমন একটা ছিল না। সোস্যাল হারমনিটা আমাদের সমাজে কেন বিনষ্ট হলো? এগুলো গবেষণা করে খুঁজে বের কেরে সেগুলো দূর করতে হবে। আইন করা হয়েছে, সেখানে একটা শাস্তির বিধান আছে; হয়তো কিছুটা অ্যাফেক্ট হতে পারে। তাতে চূড়ান্তভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ হবে— এমন কোনো নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, যেকোনো আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করে দণ্ড বাড়ানো মূলত একটি কৌশল। ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের সাজার জন্য আইন প্রণয়ন ও সংশোধন মানুষকে বোঝানো যে, বিচারের জন্য কঠোর আইন করেছি। আমি প্র্যাকটিক্যালি মনে করি, ধর্ষণের ঘটনায় দণ্ড বাড়ানোর ফলে ভিকটিমের জীবনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এখন অপরাধী হয়তো একজন নারী ও শিশুকে ধর্ষণের পর প্রমাণ না রাখার জন্য হত্যা করে ফেলতে পারে।

‘সুতরাং এটা সমাধান নয়। সমাধান হলো সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো। ক্ষমতাধরদের নিজস্ব লোকদের কন্ট্রোল করা। দেশজুড়ে ধর্ষণের যেসব ঘটনা ঘটছে তার সঙ্গে ক্ষমতার প্রভাব জড়িত। সরকার তাদের লাগাম ধরে টানলে এটা কমতে পারে। এছাড়া সরকারের মাঝে জবাবদিহি নেই। তাই অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়ে গেলে অপরাধ প্রবণতাও বাড়ে। পাশাপশি দেশে কিছু লোক অবৈধ পয়সা ইনকাম করছে, মাদক ও ধর্ষণের মতো অঘটনগুলো তারাই ঘটাচ্ছে বা ঘটানোর চেষ্টা করছে। মূলত মাদক ও নারী কেলেঙ্কারির মতো বড় বড় ক্রাইমগুলো তাদেরই নিয়ন্ত্রণে। তাই দারিদ্র্যের হার কমানো ও সামাজিক-মানসিক সচেতনতা সৃষ্টির যে কর্মসূচি সেটা বাড়াতে হবে। অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সড়ক দুর্ঘটনা, ধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মানববন্ধন করা হয়, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রভাবশালী মহল বাধা দেয়। সেটা না করে সচেতন মহল, সরকারি ও বিরোধী— সকল রাজনৈতিক সংগঠন থেকে মানুষের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *