আদালত ও ইসি সরকারের ‘মাইক্রোফোন’ হিসেবে কাজ করছে: রিজভী

নিউজ দর্পণ ঢাকা: দেশের আদালত ও নির্বাচন কমিশন সরকারের ‘মাইক্রোফোন’ হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘‘ এই সরকার নিশি রাতের একটি পার্লামেন্ট বানিয়েছে, তারা মনের মাধুরী মিশিয়ে পার্লামেন্টের বিরোধী দল বানিয়েছে। আদালত কিংবা নির্বাচন কমিশন সরকারের মাইক্রোফোন হিসেবে কাজ করছে।”

‘‘ সব তাদের(ক্ষমতাসীন দল) হওয়ার পরও প্রতিদিন তাদেরকে কেনো বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে, কেনো স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে হচ্ছে, কেনো মাদার অফ ডেমোক্রেসি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলছে অব্যাহত ষড়যন্ত্র, কেনো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চলছে প্রতিনিয়ত কুতসা রটানো?”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘‘ র‌্যাব-পুলিশ পরিবেষ্টিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রতিনিদন একটি করে সংবাদ সম্মেলন করেন। আর এই সংবাদ সম্মেলনের একটাই বিষয় বিএনপির বিরুদ্ধে আজগুবি, কল্পিত সব মিথ্যাচার ও কুতসা উদগীরণ করা।মিথ্যা বলতে বলতে সত্য ভুলে গেছেন তিনি। জনগন তার কথা শুনলে টিভির চ্যানেল বদলে দেয়।”

‘‘ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জনে বিএনপির যে অবদান আছে সেটি আওয়ামী লীগের নেই। সেই অনুশোচনায় কাদের সাহেবরা ফ্যাসিবাদ কায়েম করে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে নিশিদিন অশ্রাব মিথ্যাচারে লিপ্ত রয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘ আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, জনগনের কাছে শাক দিয়ে মাছ ঢেকে লাভ হবে নেই। সরকার নিজের গর্ত নিজেই খুঁড়ছে। তারা বেশিদিন টিকে থাকবে না।”

‘‘ পৃথিবীতে কোনো ফ্যাসিবাদ টিকে থাকেনি। এই নির্দয় ফ্যাসিবাদী সরকারও টিকবে না। জবরদস্তি করে জনগনের ঘাড়ে চেপে বসে থাকার দিন শেষ হবে অচিরেই।”

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘‘ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া্ এখন বাসায় থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি মুক্ত নন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে-উনার সাজা স্থগিত করা হয়েছে। সাজা স্থগিত হলে তো তার ওপর বিধিনি্ষেধ থাকার কথা নয়। পার্থক্যটা হচ্ছে শুধু হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে তাকে তার বাসায়(গুলশানের ফিরোজা) নিয়ে আসা হয়েছে।”

‘‘ চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী যিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার ওপর জুলুমের যেন শেষ হচ্ছে না। সরকার দেশনেত্রীকে ভয় পায়। কারণ তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত থাকলে সরকারের লাগামহীন লুটপাট-অপকর্মে বিপত্তি ঘটবে। সেজন্য তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে তার গৃহ অন্তরীন অবস্থার অবসান চাই, সম্পূর্ণ মুক্তি চাই। দেশনেত্রীর মুক্তি না হলে গণতন্ত্রের মুক্তি ঘটবে না, দেশবাসীর মুক্তি মিলবে না।”

নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।গত ১৩ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত অসুস্থ হওয়ার পর তার হৃদযন্ত্রে এনজিওপ্লাস্ট করে রিং পরানো হয়। দীর্ঘ দুই মাস চিকিতসা শেষে কার্যালয়ে এসে এটি রিজভী প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করায় দলের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীর কাছে কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম, এমএ খালেক প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *