আইনমন্ত্রীর আইন সংশোধনের বক্তব্য চরম ধাপ্পাবাজি: রিজভী

নিউজ দর্পণ,ঢাকা: ধর্ষণ অপরাধের সাজা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া নিয়ে আইনমন্ত্রীর আইন সংশোধনের বক্তব্য চরম ধাপ্পাবাজি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মতে দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, ধর্ষণ অপরাধের সাজা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া (আইন সংশোধন) শুরু করার জন্য। তাই সাজা বাড়াতে আইন সংশোধন করার যে প্রক্রিয়া তা আমরা শুরু করে দিয়েছি। এই বক্তব্য আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়।

আইনমন্ত্রীর আইন সংশোধনের বক্তব্য চরম ধাপ্পাবাজি মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠছে সেই আন্দোলনকে প্রশমিত করার জন্যই নতুন আইন তৈরীর উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। বিদ্যমান যে যাবজ্জীবন সাজার বিধান আছে সেটি প্রয়োগ হয়নি কেন ? কারণ বর্তমান সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় গুম, খুন, ধর্ষণ মহামারী রুপ ধারণ করেছে। সুতরাং অপরাধীদের অধিকাংশই পায় সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা। তাদের শাস্তি দেয়া দুরের কথা, বরং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ফাঁসির আসামিকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। ফলে অপরাধীরা যা খুশী তাই করার উৎসাহ পাচ্ছে।

রিজভীর বলেন, গতকাল চাঁদপুর ও জয়পুরহাটের কালাইয়ে দুটি পৌরসভা নির্বাচন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ৪৪ নং ওয়ার্ডে কমিশনার নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে। শতভাগ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হলেও সেসব এলাকায় বিএনপির এজেন্ট ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে, মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। জোর করে শুধুমাত্র নৌকার সমর্থকরাই ভোটকেন্দ্রে ঢুকে নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে।

“চাঁদপুরে পৌর নির্বাচনে ভোটার’রা ভোটকেন্দ্রে গেলে তাদের ওপর আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। সেখানে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিএনপি’র ২০/২৫ জন নেতাকর্মীসহ ভোটারদের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে। জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভায় এপর্যন্ত কোনদিন নৌকা বিজয় লাভ করেনি। কিন্তু সেখানে এবার জোর করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে কেন্দ্র করে দখল করে নৌকায় সিল মেরে তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কেবল একটি মাত্র ওয়ার্ডের ভোট, সেটিও তারা জোর করে কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে ছিনিয়ে নিয়েছে। আর এই নির্বাচনী ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করলো-বর্তমান নির্লজ্জ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে দেশের সকল নির্বাচনের সম্ভ্রমহানী ঘটতেই থাকবে।”

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গতকাল বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্তরাস্থ বাসভবনে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল বহিরাগত ব্যক্তি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বাসার ক্ষতিসাধন করে।

“আমি সুষ্পষ্টভাবে বলতে চাই-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় হামলার ঘটনার পেছনে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সরকারের অবিমৃশ্যকারী আইনের শাসনবিরোধী ভয়ঙ্কর রুপটি ফুঠে উঠেছে। সারাদেশ নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। গুম, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনের যে মহামারী চলছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতেই সরকারের এজেন্টরা দলের মহাসচিবের বাসভবনে এই হামলা চালিয়েছে। বিএনপি এই অনাকাঙ্খিত সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।”

রিজভীর অভিযোগ করেন, আমি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই মর্মে সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমার স্বাক্ষর জাল করে একটি জালিয়াতচক্র চাঁদপুর জেলাধীন হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলা ও সংযুক্ত দুইটি পৌরসভার বিএনপির কমিটি বাতিল করা হয়েছে বলে মিথ্যা, বানোয়াট ও সম্পূর্ণরুপে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি পত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে উক্ত কমিটিসমূহ দলের মহাসচিব কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে-এর বাইরে আর নতুন কোন সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। সুতরাং আমার স্বাক্ষর জাল করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে চিঠিটি প্রকাশ করেছে সেই বিষয়ে বিভ্রান্ত না হতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *